ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

১৭৮ জওয়ান কারামুক্ত

  • আপলোড সময় : ২৪-০১-২০২৫ ০২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০১-২০২৫ ০২:২৬:৫৯ অপরাহ্ন
১৭৮ জওয়ান কারামুক্ত
* আবেগঘন মুহূর্তে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন জামিনপ্রাপ্তরা
* বিডিআর সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন আত্মীয়-স্বজনরা 
* বিনা দোষে কারাগারে থেকে জীবন থেকে চলে গেছে ১৬টি বছর

পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা বিস্ফোরক মামলায় জামিনের পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন ১৭৮ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগার থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর পর একে একে ১৭৮ জন কারামুক্ত হন। কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারের সামনে সকাল থেকে বিডিআর সদস্যদের স্বজনরা ফুল ও ফুলের মালা নিয়ে অপেক্ষা করেন। দুপুর ১টা থেকে যখন জামিনপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যরা কারামুক্ত হয়ে বের হয়ে আসছিলেন তখন তাদের দেখে স্বজনরা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। জামিনপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যরা এবং তাদের স্বজনরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্ত্রী-সন্তান কিংবা স্বজনদের জড়িয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বিডিআর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বজনরাও জামিনপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্যদের বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। গত ১৯ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ কারাগারের অস্থায়ী আদালতে ঢাকার বিশেষ ট্রাইবুন্যাল ২ এর বিচারক ইব্রাহীম মিয়ার আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও জামিন শুনানি শেষে বিস্ফোরক মামলার আসামিদের জামিনে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়।  
জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোট ৪১ জন, কাশিমপুর-১ থেকে ২৬ জন, কাশিমপুর-২ থেকে ৮৯ জন, কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি সেল থেকে ১২ জনসহ মোট ১৭৮ জন বিডিআর সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়। গত বুধবার কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারে এই ১৭৮ আসামির জামিননামা পাঠানো হয়। সেসব জামিননামা যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকার শর্তে বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। এর মধ্যে হত্যা মামলায় ৮৫০ জনের বিচার শেষ হয় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর। যেখানে ১৫২ জনের ফাঁসি ছাড়াও ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া খালাস পান ২৭৮ জন। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর সেই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। সেইসঙ্গে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। পাশাপাশি আরও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আর খালাস পান ২৮৩ জন। তবে হাইকোর্টের রায়ের আগে ১৫ জনসহ সব মিলিয়ে ৫৪ জন আসামি মারা গেছেন। ফলে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২২৬ জন আসামি আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। অন্যদিকে হাইকোর্টে ৮৩ জন আসামির খালাস এবং সাজা কমানোর রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এসব আপিল ও লিভ টু আপিল এখন শুনানির অপেক্ষায়। বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয় ২০১০ সালে। কিন্তু মাঝপথে বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম একপ্রকার স্থগিত রেখে শুধু হত্যা মামলার সাক্ষ্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ফলে মামলাটির বিচার ঝুলে যায়।
এদিকে গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরুর দাবি উঠে। গত ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যান শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এই হত্যাকাণ্ড পুনঃতদন্তের জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর আ ল ম ফজলুর রহমানকে প্রধান করে কমিশন গঠন করে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে এ কমিশনকে।
কারামুক্ত হয়ে বিডিআর সদস্য আল-আমিন বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামাতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি। আমাদের বিনা দোষে এতগুলো বছর ধরে কারাগারে বন্দি করে রেখে দেওয়া হয়। আজ আমরা কারামুক্ত হয়েছি। তবে এখনো আমাদের যেসব ভাই বিনা দোষে কারাগারে রয়েছেন তাদের জন্য সরকার দ্রুত মুক্ত করার ব্যবস্থা করুক।
স্বজনদের জড়িয়ে কান্নারত অবস্থায় আরেক বিডিআর সদস্য বলেন, আমাদের জীবন তো শেষ, আমাদের জীবনের ১৬টি বছর কারাগারে কেটেছে। আমরা কোনো দোষ করিনি। অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়। এখন পরিবার পরিজনের কাছে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত। এ সময় এক বিডিআর সদস্যের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামীকে আমি ফিরে পেয়েছি। কোনোদিন ভাবিনি তাকে ফিরে পাবো। এতটা দিন কারাগারে তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। এছাড়া কারামুক্ত বিডিআর সদস্যদের বরণ করে নিতে আসেন তাদের সন্তানরাও। সন্তানরা বাবাকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। আবার অনেক সন্তান তাদের বাবাকে ফুলের মালা কিংবা ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন।
ঢাকা বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির জানিয়েছেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৪৩ জন, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ থেকে ২৭, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ হতে ৯৫ এবং কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৩ জনসহ মোট ১৭৮ জন সাবেক বিডিআর সদস্য বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে যারা আদালতের আদেশে মুক্ত হলেন, নতুন জীবনের হাতছানির মাহেন্দ্রক্ষণে ভাষা হারিয়েছেন তারা।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স